১০০+ হুমায়ুন ফরিদীর উক্তি, জনপ্রিয় বাণী ২০২৫

বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের আকাশে যে কয়টি নাম জ্যোতির্ময় হয়ে জ্বলজ্বল করে, হুমায়ুন ফরীদী তাঁদের অন্যতম। কেবল অভিনয় নয়, তাঁর বলা প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি সংলাপ, যেন এক একটি বুদ্ধিদীপ্ত ধাক্কা। বাঙালির আবেগ, অভিমান, বিদ্রোহ, প্রেম আর বেদনার ভাষা যিনি সংজ্ঞায়িত করে দিয়েছিলেন অভিনয়ের পরতে পরতে। এই প্রবন্ধে আমরা তুলে ধরব তাঁর কিছু কালজয়ী উক্তি, দার্শনিক বাণী ও হৃদয়ছোঁয়া কথা — যা পাঠককে শুধু বিনোদিতই করবে না, বরং ভাবতে শেখাবে।

হুমায়ুন ফরিদীর উক্তি

বহুমাত্রিক এই শিল্পীর ভাবনার পরিধি নাটক-চলচ্চিত্র ছাড়িয়ে সমাজ-সংস্কৃতি-রাজনীতি পর্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর উক্তিগুলো নিছক সংলাপ নয়, বরং জীবনদর্শনের ছায়া। কখনো বিদ্রোহী, কখনো দার্শনিক, কখনো ক্লান্ত কবির মতো।

অভিনয় আমার কাছে জীবন নয়, জীবনই আমার কাছে অভিনয়।
— এটি নিছক উক্তি নয়, এটি ছিল তাঁর অস্তিত্বের মানচিত্র।

জীবনের কোনও শর্টকাট নেই। ধাপে ধাপে আগাতে হয়। তবেই বোঝা যায়, প্রতিটি ধাপের মূল্য।

হার মেনো না, কারণ হেরে গেলে শুধু তুমি না, তোমার স্বপ্নও হেরে যায়।

মানুষ জন্মায় নায়ক হতে নয়, মানুষ হতে।

বড় হও, কিন্তু অন্যকে ছোট করে নয়।

জীবন কাঁটার ঝোপ, সাহস ছাড়া অতিক্রম করা যায় না।

নিজেকে হারিয়ে ফেলো, তবেই নিজেকে খুঁজে পাবে।

যে চোখে স্বপ্ন নেই, সে চোখে জলও থাকে না।

তোমার ভেতরের দানবটাকেই প্রথম মারতে হবে। বাইরে কারও কিছু করার নেই।

ভালোবাসা মানে নিজের মধ্যে আরেকজনকে বাঁচিয়ে রাখা।

যে ভালোবাসে, সে প্রশ্ন করে না। যে প্রশ্ন করে, সে ভালোবাসে না।

ভালোবাসা কখনও দাবি করে না, কেবল দেয়।

ভালোবাসা বোঝে না ব্যস্ততা, বোঝে অনুভব।

মনে রেখো, যে হারায় সে-ই জানে, কীভাবে ভালোবাসতে হয়।

চলে যাওয়া মানুষকে দোষ দিও না। সে ছিল বলেই তুমি কিছু অনুভব করতে পেরেছিলে।

বিচ্ছেদ মানে শেষ নয়, এক নতুন জীবনের শুরু।

কিছু অনুভব থাকে, বলা যায় না — সেই অনুভবই হয় সত্যিকারের প্রেম।

অন্যায়কে মেনে নেওয়া নিজেও অন্যায়।

নীরবতা কখনো কখনো সর্বোচ্চ প্রতিবাদ।

তুমি যদি অন্যায়ের পাশে চুপ থাকো, তবে তুমি তার অংশীদার।

নেতা মানে নির্দেশক নয়, প্রেরণাদাতা।

যে সমাজ প্রশ্ন করতে জানে না, সে সমাজ কাঁদতে জানে না।

গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়, মত প্রকাশের সাহস।

তুমি নিজেকে যতটা জানো, দুনিয়াও তোমাকে ততটাই চিনবে।

আত্মসমালোচনা করো, আত্মসমর্পণ নয়।

প্রতিযোগিতা করো নিজের সঙ্গে, অন্য কারো সঙ্গে নয়।

ব্যর্থতা মানেই থেমে যাওয়া নয়, নতুন পথ খোঁজার সুযোগ।

সাফল্য আসে পরিশ্রমের পরে, কিন্তু ধৈর্যের আগে।

তুমি যদি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা না নাও, তাহলে সেটা অপচয়।

একজন শিল্পীর কাছে বাস্তবও একধরনের কল্পনা।

শিল্পে সত্য থাকে, সাজানো হয় না।

অভিনয় করতে গেলে আগে মানুষ হতে হয়।

নাটক হচ্ছে সেই আয়না, যা সমাজের মুখ দেখায়।

চলচ্চিত্র আমাদের সময়কে ধারণ করে, সংরক্ষণ করে।

ভালো অভিনয় হলো নীরব চিৎকার। সবাই শুনে, কেউ জানে না।

সততার চেয়ে বড় কোনো নায়কত্ব নেই।

যে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে কাউকেই ঠকাতে ছাড়ে না।

মানুষ ভালো হলে ধর্ম বড় হয়, ধর্ম বড় হলেও মানুষ ভালো নাও হতে পারে।

মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার চর্চা করো।

সহানুভূতি নেই যে হৃদয়ে, সে হৃদয় নয় — পাথর।

একটা ভালো কথা, কারও একটা দিন বদলে দিতে পারে।

একাকিত্ব দুর্বলতার প্রতীক নয়, চিন্তার গহ্বর।

সবাই পাশে থাকলেই পাশে থাকা হয় না।

নিজেকে ভালোবাসো, নিজেকে সময় দাও।

যে নিজের সম্মান নিজে রাখে না, কেউ তাকে সম্মান করবে না।

সম্মানের চেয়ে বড় কোনো সাফল্য নেই।

তুমি নিজে যদি নিজেকে মূল্য না দাও, তাহলে দুনিয়াও দেবে না।

সময় খুব নিষ্ঠুর, সে কাউকে অপেক্ষা করতে শেখায় না।

জীবন অনেক ছোট, কিন্তু অনুভবের আয়তন অনেক বড়।

মৃত্যু চিরন্তন, কিন্তু স্মৃতি অনন্ত।

মৃত্যু তো একমাত্র সত্য, বাকি সব অনিশ্চয়তা।

আমরা সবাই মরে যাই, কেউ কেউ থেকে যায় তাঁর কাজের মধ্যে।

শরীর মরে, আত্মা থেমে যায় না।

ভয়ই মানুষকে সবচেয়ে বেশি সীমাবদ্ধ করে।

তুমি যদি সত্য বলো, তোমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

হেরে যাওয়া মানেই হার নয়, কখনো কখনো সেটা নতুন যুদ্ধের শুরু।

সাহস হচ্ছে ভয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখার শিল্প।

মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু — তার নিজের অহং।

যে স্বপ্ন দেখে না, সে ভবিষ্যৎ গড়তে পারে না।

প্রশ্নহীন সমাজ মুমূর্ষু সমাজ।

যে নিজেকে বোঝে না, সে অন্যকেও বুঝতে পারে না।

ভালোবাসা থাকলে কষ্ট থাকবেই, কিন্তু সেই কষ্টেও সুখ থাকে।

একটি সত্য শব্দ — হাজারটা মিথ্যের চেয়ে শক্তিশালী।

যার চোখে পানি নেই, তার হৃদয়ে আলো নেই।

সমাজ বদলাতে হলে আগে নিজেকে বদলাও।

আলো দেখাতে হলে নিজে দীপ হতে হয়।

বিষণ্ণতা লুকিয়ে থাকে প্রাপ্তির পেছনে।

মানুষের চিন্তাভাবনাই তার প্রকৃত পরিচয়।

চরিত্র গঠনে সময় লাগে, ধ্বংসে মুহূর্ত।

কৃতজ্ঞতা হলো মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ।

মৃত্যু যদি ভয় না পায়, জীবনকেও ভয় পাবে না।

শেষ কথা

বর্তমান যুগের দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে ফরিদীর বাণীগুলো যেন একেকটি দীপশিখা — পথ দেখায়, চিন্তায় আলো জ্বালে। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন যে শব্দভাণ্ডার, তা সময়কে ছেদ করে মানুষের মনে গেঁথে থাকবে চিরকাল। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, ফরিদীর প্রতিটি সংলাপই ছিল জীবনের গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে আসা। তিনি ছিলেন একা, কিন্তু তাঁর চিন্তা আমাদের সবার হয়ে কথা বলত।ত

এই পোস্টটি শেয়ার করুন এবং হুমায়ুন ফরিদীর অমূল্য চিন্তাগুলো আরও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top